গোল বাতিলে বিতর্ক, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় জার্মানির, টাইব্রেকারে হার প্যারাগুয়ের কাছে
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল পারলেও চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি পারল না। আগের ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে ব্রাজিল শেষ ষোলোয় চলে গেলেও টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে এবারের মত বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল জার্মানির।

গৌতম রায়
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল পারলেও চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি পারল না। আগের ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে ব্রাজিল শেষ ষোলোয় চলে গেলেও টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে এবারের মত বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল জার্মানির। তবে জার্মানির একটি ন্যায্য গোল কি বাতিল করা হল? তাদের প্রতি কি অন্যায় করা হল? তা নিয়ে কিন্তু সংশয় থেকেই গেল।
টাইব্রেকারটাও ছিল নাটকীয়তায় ভরা। জার্মানির দুটি শট প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক হিল আটকে দিলেও শেষ দুটি শট নষ্ট করে জার্মানিকে আবার ম্যাচে ফেরালো প্যারাগুয়ে। কিন্ত জার্মানি যেন এদিন জিততে চাইছিল না, নাহলে ওভাবে লাইফলাইন পেয়েও সাডেন ডেথে কেন ওভাবে বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেবেন জোনাথন তা! আর ভুল করেননি হোসে কানালে। গোল করে শেষ ষোলোয় পৌঁছে দিলেন প্যারাগুয়েকে।
প্যারাগুয়ের হয়ে পেনাল্টি শ্যুট আউটে গোল করেন মরিসিও, গুস্তাভো গোমেজ, ম্যাতিয়াস গালারজা ও হোসে কানালে। অন্যদিকে জার্মানির হয়ে গোল করেন কিমিচ, মুসিয়ালা ও আমিরি। মিস করেন হাভার্টজ, ওটেমাডে ও তা।
প্রশ্ন তো উঠবেই নির্ধারিত সময়ের প্রথমার্ধেও বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেও, প্যারাগুয়ে রক্ষণের ওপর দাপিয়ে গেলেও কেন গোল করতে পারল না জার্মানি? উল্টে কেনই বা গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়তে হল? উত্তর একটাই, গুস্তাভো আলফারোর প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ জার্মানি ভেদ করতে পারল না। এমনভাবে ডিফেন্সিভ জোনটাকে নি্শ্ছিদ্র করে রেখেছিলেন প্যারাগুয়ে ডিফেন্ডার ও মাঝমাঠের ফুটবলাররা, যে কিছুতেই পেনিট্রিটিভ জোনে ডিফেন্স চেরা পাস খেলার জায়গা পাচ্ছিলেন না জার্মান অ্যাটাকাররা। ফলে বারবার ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছিল।
উল্টোদিকে হঠাৎ ডানদিক দিয়ে একটা দুর্দান্ত আক্রমণ তুলে আনে প্যারাগুয়ে। দারুণ সেন্টার রাখেন ম্যাতিয়াস গালারজা, কিন্তু প্রশ্ন হল যখন সেই বলে হেড করে গোল করে গেলেন এনসিসো, তখন তিনি ওভাবে আনমার্কড রইলেন কীভাবে? ফলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় জার্মানদের।
এরপরই টুর্নামেন্টের সর্বকনিষ্ঠ কোচ নাগলসম্যান কৌশল বদলে প্ল্যান বি-তে চলে যান। দ্বিতীয়ার্ধে মাঝখানে খেলাটা অযথা জটিল না করে প্যারাগুয়ে ডিফেন্স স্ট্রেচ করে উইং থেকে দ্রুত ক্রস করতে লাগল জার্মানরা। এবং মেচার জায়গায় গোয়ের্ৎজাকে নামিয়ে দিলেন নাগলসম্যান। তাতেই ফল মিলল। বাঁদিক থেকে করা ফ্লোরিয়ান উইর্টজের ক্রসে হেড করে গোলটি শোধ করে দেল হাভার্টজ। তিনি এভাবে দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যেতেন, কিন্তু তাঁর হেড এক্ষেত্রে দারুনভাবে বাঁচিয়ে দেন প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো হিল। নির্ধারিত সময় শেষ হয় ১-১ গোলেই।
অতিরিক্ত সময়ে কর্ণার থেকে হেড করে জার্মানিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জোনাথন তা। কিন্তু অ্যানটন প্যারাগুয়ে গোলরক্ষককে ফাউল করেছেন বলে ভারের সাহায়্যে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এক্ষেত্রে গোলরক্ষকের প্লে অ্যাক্টিংয়ের জন্যই বঞ্চিত হতে হল জার্মানিকে। ফাউল হয়নি। তাঁর পড়ে যাওয়ার কোনও কারণ ছিল না। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে চলে গেল ম্যাচ।
জার্মানি মানে একটা কামড়। জার্মানি মানে একটা নাছোড় মনোভাব, কিলার ইনস্ট্রিঙ্কট। পেনাল্টি শ্যুট আউটে সেই জার্মানিকেই বড় অচেনা মনে হল। চাপে পড়ে গিয়েছিলেন কি হাভার্টজরা? হতে পারে। ফল যা হওয়ার তাই হল। গুডবাই ওয়ার্ল্ড কাপ।








