ফিফার কাছে যাবতীয় অভিযোগ জানিয়ে দেশে ফিরছে ভগ্নহৃদয়, লড়াকু ইরান
"আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। আমি ফিফাকে অনুরোধ করছি, ভবিষ্যতে কোনও আয়োজক দেশ যেন কোনও দলের সঙ্গে এমন আচরণ করতে না পারে। আশা করি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।"

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: এবারের মত বিশ্বকাপ শেষ ইরানের।এবার দেশে ফেরার পালা। তবে যাবতীয় প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যে দুর্দান্ত লড়াই তারা করে গেল, তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে সকলেই। তবে এবার দেশে ফেরার আগে ফিফার কাছে তাদের সঙ্গে হওয়া যাবতীয় অন্যায়ের অভিযোগ জানিয়ে যাচ্ছে তারা। ম্যাচ শেষে কোচ আমির ঘালেনোয়ি এবং অধিনায়ক মেহদি তারেমি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ইনজুরি টাইমে শোজায়ে খলিলজাদেহর করা গোলটি ভিএআর পর্যালোচনার পর অল্পের জন্য অফসাইড ঘোষণা করা হলে ইরানের শেষ ৩২ নিশ্চিত করার সুযোগ হাতছাড়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরান তাদের প্রশিক্ষণ শিবির যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন থেকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। ফলে তিনটি গ্রুপ ম্যাচ খেলতে বারবার যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হয়েছে দলটিকে, যা খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করেছে।
ম্যাচ শেষে কোচ আমির ঘালেনোয়ি বলেন,
"আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। আমি ফিফাকে অনুরোধ করছি, ভবিষ্যতে কোনও আয়োজক দেশ যেন কোনও দলের সঙ্গে এমন আচরণ করতে না পারে। আশা করি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।"
তিনি আরও বলেন,
"আমাদের খেলোয়াড়রা যে পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও লড়াই করেছে, তা ইতিহাসে লেখা উচিত। আয়োজক দেশের আচরণ ছিল অত্যন্ত খারাপ। এত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও আমরা ভালো খেলেছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।"
সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল শহরের বার্ষিক প্রাইডফেস্ট চলাকালীন। যদিও স্টেডিয়ামের ভেতরে বা ফিফার ফ্যান ফেস্টিভ্যালে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রাইড কার্যক্রম দেখা যায়নি, দর্শকদের হাতে বেশ কয়েকটি রেইনবো পতাকা দেখা যায়।
স্টেডিয়ামের বাইরে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির সমর্থকেরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেন। ফলে ম্যাচ শুরুর আগে পুরো এলাকাজুড়ে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় মিশর। তবে মাত্র নয় মিনিট পর সমতা ফেরায় ইরান। দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের জন্য একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা।
স্টপেজ টাইমে শোজায়ে খলিলজাদেহ বল জালে পাঠালে ইরানি সমর্থকদের উল্লাসে ফেটে পড়েন। কিন্তু কয়েক মিনিটের ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। শেষ মুহূর্তে আরেকটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে জয় হাতছাড়া হয় ইরানের।
ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি এই বিশ্বকাপকে "দুর্যোগপূর্ণ" বলে অভিহিত করেন। তবে তার অভিযোগ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে নয়, বরং আয়োজকদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে।
তারেমির দাবি, দলের কিছু লজিস্টিকস কর্মকর্তা ভিসা না পাওয়ায় দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। এছাড়া ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল প্রায় শূন্য, যেখানে মিশরের সাংবাদিকরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, টানা তৃতীয় ম্যাচের পরও ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে রাত কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। ম্যাচ শেষ করেই দলকে আবার মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ফিরে যেতে হয়েছে, যা পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও অনুশীলনের সুযোগ কেড়ে নিয়েছে।
ম্যাচ শেষে আগের দুই ম্যাচের মতোই ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তা রেখে যায় ইরান দল। সেখানে তারা সিয়াটলের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানায়, ইরানি সমর্থকদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং লেখে— "ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি চরিত্রেরও পরীক্ষা।"








