নতুন ক্রীড়া আইনের আওতায় BCCI? সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের চাপে ক্রিকেট বোর্ড
নতুন আইনে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ন্যাশনাল স্পোর্টস বোর্ড -এর মতো কেন্দ্রীয় কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। ফলে বিসিসিআই-এর দীর্ঘদিনের স্বশাসন এবং আর্থিক স্বাধীনতার সঙ্গে নতুন আইনের বিধানের সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: বিরাট পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে। নতুন ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স এক্ট, ২০২৫ এর আওতায় ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং তার অধীনস্থ সংস্থা গুলি পড়ছে কিনা তাই নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিসিসিআই এবং তার অধীনস্থ রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা গুলির থেকে নতুন আইন প্রয়োগের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, এবং বিচারপতি ভি. মোহনা।
নতুন এই আইনের আওতায় দেশের ক্রীড়া সংস্থা গুলির প্রশাসনে একাধিক কঠোর নিয়ম লাগু হয়েছে। এই আইনাধীন রয়েছে কিছু কড়া নিয়ম, যেমন পদাধিকারীদের বয়স সীমা, নৈতিক মানদণ্ড, কার্যকালের নির্দিষ্ট সীমা, ইত্যাদি। অন্যদিকে, বিসিসিআই এর পদাধিকারীরা রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে মিলিয়ে টানা বারো বছর দায়িত্বে থাকতে পারেন।
বিসিসিআই-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হল তার আর্থিক স্বায়ত্তশাসন। বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে বিসিসিআই দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে এসেছে যে, তারা সরকারি অর্থের উপর নির্ভরশীল নয়। ফলে অন্যান্য সরকারি বা সরকারি অনুদাননির্ভর ক্রীড়া সংস্থার মতো একই নিয়মের আওতায় তাদের আনা উচিত কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
নতুন আইনে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ন্যাশনাল স্পোর্টস বোর্ড -এর মতো কেন্দ্রীয় কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। ফলে বিসিসিআই-এর দীর্ঘদিনের স্বশাসন এবং আর্থিক স্বাধীনতার সঙ্গে নতুন আইনের বিধানের সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলি নতুন আইনের আওতায় এলে তাদের প্রশাসন সংক্রান্ত কিছু বিরোধ ভবিষ্যতে স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে।
বিসিসিআই-এর প্রশাসনে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ অবশ্য নতুন নয়। ভারতীয় ক্রিকেটে সংস্কারের লক্ষ্যে বিচারপতি আর. এম. লোধা কমিটির সুপারিশের পর থেকেই বোর্ডের সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক নিয়মে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে সংশোধিত বিসিসিআই সংবিধান গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে পদাধিকারীদের কার্যকালের নিয়মেও পরিবর্তনের অনুমতি দেয় শীর্ষ আদালত।
এখন নতুন ক্রীড়া আইনকে ঘিরে ফের বিসিসিআই-এর প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিসিসিআই এবং বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার বক্তব্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁদের জবাবের ভিত্তিতেই ভবিষ্যত নির্ধারিত হতে পারে, ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নতুন জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে কি না।
