১০২ ডিগ্রি জ্বর থেকে চোটের যন্ত্রণা, সাত মাসের লড়াই শেষে ফিরছেন আকাশদীপ
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন আকাশদীপ। অবশেষে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেয়েছেন তিনি। পুনর্বাসন পর্বে বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের পরিকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেছেন বাংলার এই পেসার। তাঁর কথায়, পুনর্বাসনের সময় বড় কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। সেখানকার সুযোগ-সুবিধাকেও বিশ্বমানের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল আকাশদীপের। তবে এখনও পর্যন্ত একদিনের আন্তর্জাতিক এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি বাংলার এই পেসারের। কিন্তু গত সাত মাস ধরে চোটের কারণে ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। বারবার ফিরে আসা কোমরের নিচের অংশের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের সমস্যায় দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন আকাশদীপ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলার হয়ে খেলতে গিয়েই চোট পান তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আকাশদীপ জানিয়েছেন, ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও তিনি রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছিলেন। বাংলাকে সাহায্য করার জন্য তাঁর এই লড়াই প্রমাণ করে, দলের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ম্যাচের পর চোটের কারণে ২০২৬ সালের আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছিটকে যান এই পেসার। এর ফলে ক্রিকেটীয় ক্ষতির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন আকাশদীপ। অবশেষে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেয়েছেন তিনি। পুনর্বাসন পর্বে বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের পরিকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেছেন বাংলার এই পেসার। তাঁর কথায়, পুনর্বাসনের সময় বড় কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। সেখানকার সুযোগ-সুবিধাকেও বিশ্বমানের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আকাশদীপের ক্রিকেটজীবনের পিছনে রয়েছে এক আবেগঘন পারিবারিক কাহিনি। তাঁর দিদি অখণ্ড জ্যোতি সিং তাঁকে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। দিদির ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। পেশাদার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না আকাশদীপের কাছে। আর্থিক অনটন, পরিবারের প্রিয়জনদের হারানো এবং এমন কিছু কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে, যখন ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।
ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে তাঁর পারফরম্যান্স তাই বিশেষ আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। দিদির কেমোথেরাপি চলাকালীন তাঁর পাশে থাকার স্মৃতি এবং দিদির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই সেই পারফরম্যান্স উৎসর্গ করেছিলেন আকাশদীপ।
ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার সময় বিহার সরকার তাঁকে উপ-পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ করে। তবে ক্রিকেটে ফেরার লক্ষ্য থেকে কখনও সরে যাননি এই পেসার।
সাত মাসের কঠিন লড়াইয়ের পর ইরানি কাপে প্রত্যাবর্তন আকাশদীপের কাছে শুধুমাত্র একটি ম্যাচে ফেরা নয়, বরং নতুন করে নিজের ক্রিকেটজীবন গড়ে তোলার প্রথম ধাপ। চোট কাটিয়ে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পর এবার মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই জবাব দিতে চান বাংলার এই পেসার। ভারতীয় দলের জার্সিতে ফেরার লক্ষ্যে নতুন করে যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত তিনি।
