মেয়ের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে ৫০ লক্ষের চাকরি ছেড়ে দাবা অ্যাকাডেমি গড়ছেন নিধি
মেয়ের দাবার স্বপ্নপূরণে একসময় বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার চাকরি ছেড়েছিলেন মা। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত লড়াই আজ পরিণত হয়েছে উত্তর ভারতের দাবার জগতে নতুন সুযোগ তৈরির উদ্যোগে। নিধি রোহিল্লার গল্প তাই শুধু এক মায়ের আত্মত্যাগের নয়, বরং একটি গোটা দাবা-সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: মেয়ের দাবার স্বপ্নপূরণে একসময় বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার চাকরি ছেড়েছিলেন মা। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত লড়াই আজ পরিণত হয়েছে উত্তর ভারতের দাবার জগতে নতুন সুযোগ তৈরির উদ্যোগে। নিধি রোহিল্লার গল্প তাই শুধু এক মায়ের আত্মত্যাগের নয়, বরং একটি গোটা দাবা-সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
মেয়ে শিবিকার দাবার প্রতি আগ্রহ ও প্রতিভা বুঝতে পেরে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন নিধি। উন্নত প্রশিক্ষণ, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, দিল্লিতে এই পরিকাঠামোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। মেয়ের দাবার প্রস্তুতিতে সময় দিতে এবং নিয়মিত তার সঙ্গে থাকতে নিজের সফল কর্পোরেট কর্মজীবন ছেড়ে দেন নিধি।
তবে শিবিকার জন্য সুযোগ খুঁজতে গিয়েই তিনি উপলব্ধি করেন, একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আরও অনেক তরুণ দাবাড়ু ও তাঁদের পরিবারকে। ভালো অনুশীলনের পরিবেশ, প্রতিযোগিতা এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগের অভাব তাঁদের উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেখান থেকেই নিজের মেয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর উদ্যোগের কথা ভাবেন নিধি।
সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় এসআর দাবা অ্যাকাডেমি এবং ‘চেস কফি কানেক্ট’। মাত্র কয়েক জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হওয়া অ্যাকাডেমিতে বর্তমানে প্রায় ৮০ জন দাবাড়ু প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। অন্যদিকে, চেস কফি কানেক্টের মাধ্যমে আটটি রাজ্যে দাবাড়ুদের একত্রিত করে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করাই নিধির লক্ষ্য নয়। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও বই দেওয়া, মেয়েদের দাবায় উৎসাহিত করা এবং দৃষ্টিহীন ও স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন খেলোয়াড়দের একসঙ্গে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দেওয়ার মতো উদ্যোগও নিয়েছে তাঁর সংস্থা।
অন্যদিকে, শিবিকাও নিজের দাবার যাত্রায় এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে সে মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার। লন্ডনে মহাকাশ প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দাবাও চালিয়ে যাচ্ছে। মেয়ের জন্য শুরু হওয়া যে লড়াই একসময় নিধির কর্মজীবনের ইতি টেনেছিল, আজ সেটাই অসংখ্য তরুণ দাবাড়ুর কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।
নিধির কাছে তাই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত খেতাব বা ট্রফিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি দাবার পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সুযোগের অভাবে কোনও প্রতিভাই থমকে না যায়।








