কার্লসেনের কাছে হার আনন্দের, কিন্তু দলগত লড়াইয়ে বাজিমাত আনন্দের আলাস্কান নাইটসের
বহু প্রতীক্ষিত দ্বৈরথে শেষ হাসি হাসলেন ম্যাগনাস কার্লসেন। তবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে কার্লসেন জয় পেলেও দলগত প্রতিযোগিতায় বাজিমাত করল বিশ্বনাথন আনন্দের আলাস্কান নাইটস। Alpine APL Pipers-এর বিরুদ্ধে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে ৯-৭ ব্যবধানে জয় তুলে নিল আনন্দের দল।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: বহু প্রতীক্ষিত দ্বৈরথে শেষ হাসি হাসলেন ম্যাগনাস কার্লসেন। তবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে কার্লসেন জয় পেলেও দলগত প্রতিযোগিতায় বাজিমাত করল বিশ্বনাথন আনন্দের আলাস্কান নাইটস। Alpine APL Pipers-এর বিরুদ্ধে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে ৯-৭ ব্যবধানে জয় তুলে নিল আনন্দের দল।
দুই দাবা কিংবদন্তির মধ্যে আইকন-বোর্ডের লড়াই শেষ হল নাটকীয়ভাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজের পরবর্তী চাল দিতে না পারায় সময় শেষ হয়ে যায় আনন্দের। আর সেই কারণেই জয় পেয়ে যান কার্লসেন। অর্থাৎ বোর্ডে সরাসরি চেকমেট বা কোনও বড় কৌশলগত ভুলের কারণে নয়, শেষ পর্যন্ত ঘড়ির কাঁটাই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ফল।
দ্রুতগতির দাবায় সময় যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ম্যাচ তারই নিখুঁত উদাহরণ। আনন্দের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ব্যক্তিগত হতাশার মুহূর্ত। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কার্লসেনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল শেষ করতে না পারায় ম্যাচ হাতছাড়া হয় তাঁর।
অন্যদিকে, আনন্দকে হারিয়ে নিজের দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন কার্লসেন। ভারতীয় কিংবদন্তির বিরুদ্ধে নরওয়ের তারকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু এবার ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করল কোনও দুরন্ত ট্যাকটিক্যাল চাল নয়, বরং সময়ের নিষ্ঠুর হিসাব।
তবে কার্লসেনের ব্যক্তিগত জয় সত্ত্বেও দলগত প্রতিযোগিতায় Alpine APL Pipers-কে হারাতে কোনও সমস্যা হয়নি আলাস্কান নাইটসের। ৯-৭ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আনন্দের দল।
ফলে ম্যাচের ফলাফল হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়। ব্যক্তিগত দ্বৈরথে কার্লসেন পেলেন জয় ও ‘ব্র্যাগিং রাইটস’, কিন্তু দলগত লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন আনন্দ এবং তাঁর আলাস্কান নাইটস।
আনন্দের মতো কিংবদন্তির কাছে এভাবে সময়ের কাছে হার নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক। কিন্তু এই ম্যাচ আরও একবার মনে করিয়ে দিল—দ্রুতগতির দাবায় প্রতিটি সেকেন্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বোর্ডে আপনি যতই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন, ঘড়ির কাঁটা থেমে থাকে না। আর কখনও কখনও সেই ঘড়িই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।
