ব্রাজিলকে প্রবল ঝাঁকুনি দিয়ে ম্যাচ ড্র করল মরক্কো
মরক্কো শুধু ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র-ই করে দিল না, বিশেষ করে প্রথমার্ধে সব বিভাগেই ব্রাজিলকে টেক্কা দিয়ে গেল।

লড়াইটা কঠিন হবে জানাই ছিল, তবে হাকিমিরা যে এভাবে সেলেকাওদের নাভিশ্বাস তুলে দেবে সেটা হয়ত ভাবা যায়নি। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম বড় দল হিসাবে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। আর ব্রাজিল মানেই বিশ্বজুড়ে আবেগ, উত্তেজনা, কৌতুহল। কিন্তু মরক্কো শুধু ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র-ই করে দিল না, বিশেষ করে প্রথমার্ধে সব বিভাগেই ব্রাজিলকে টেক্কা দিয়ে গেল।
শুরু থেকেই দ্রুত গতির আক্রমণের ঝড় তুলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মরক্কো। প্রথমে গোল করে এগিয়েও যায়। আগুয়ান আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে নিখুঁত লব করে বল জালে জড়িয়ে দেন ইসমাইল সাইবারি। তবে খেলার গতির বিরুদ্ধে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোল ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরায়। বাঁদিক দিয়ে কাট করে ঢুকে জোরালো শটে ম্যাচে সমতা ফেরান ভিনি।
গোটা প্রথমার্ধ রীতিমত ছন্নছাড়া ব্রাজিল। মূলত গতিতেই টেক্কা দিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো, পাকুয়েতারা গতিতে তাল মেলাতেই পারছিলেন না। ফলে মাঝমাঠে অনেকটা ফাঁকা জমি পেয়ে যাচ্ছিলেন মরক্কোর ফুটবলাররা। দ্রুত গতিতে লোক বাড়াচ্ছিলেন। যে কারণে নিউম্যারিক্যাল সুপ্রিমেসি বজায় থাকছিল সব সময়।
অভিজ্ঞ আনসেলোত্তি অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে এই জায়গাটা মেরামত করার চেষ্টা করেন। ক্যাসেমিরোকে তুলে নামিয়ে দেন ফ্যাবিনহোকে। পরে নামিয়ে দেন ড্যানিয়েল স্যান্টোসকে। এর ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল মাঝমাঠ কিছুটা জমাট বাঁধে। কিন্তু আপফ্রন্টে র্যফিনহা (Raphinha) চেষ্টা করলেও থিয়াগোর মধ্যে সেই তীক্ষ্ণতা কোথায়?
অন্যদিকে বুদ্ধদীপ্ত ফুটবল কাকে বলে দেখালেন হাকিমি। দলটাকে খেলানোর চেষ্টা করলেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে তাঁর ডুয়েলটাও ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। তবে সবচেয়ে যে ব্যপারটা চোখে লাগল, একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে পিছিয়ে পড়ছেন ব্রাজিল ফুটবলাররা। ঐতিহ্যেই যে টান পড়েছে!
গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল মরক্কো। এবারও যে তারা কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ, ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়ে গেল। মরক্কো হয়ত জেতেনি, কিন্তু সেলেকাওদের প্রবল একটা ঝাঁকুনি তো দিয়ে গেল!








