কেভিন পিনা: কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলদাতাকে চিনুন
উরুগুয়ের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে।

Photo- cape verde/x
রৌণক ঘোষ: ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়ের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে। ম্যাচের ২১ মিনিটে দুর্দান্ত একটি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন কেভিন পিনা।
কেভিন পিনার পুরো নাম কেভিন লেনিনি গনসালভেস পেরেইরা দে পিনা। ১৯৯৭ সালের ২৭ জানুয়ারি কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছয় ফুট লম্বা এই মিডফিল্ডারের ফুটবল যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না।
শৈশবেই পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর একসময় তিনি ভেবেছিলেন, পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন হয়তো আর পূরণ হবে না। কিন্তু কেপ ভার্দের সাবেক অধিনায়ক কার্লোস "কালো" মোরাইস-এর সঙ্গে এক আকস্মিক সাক্ষাৎ বদলে দেয় তাঁর জীবন। সেই অনুপ্রেরণাই তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনে ফুটবলের পথে।
কেপ ভার্দের ক্লাব টচাডেন্সে-র যুব দলে ফুটবল শেখার পর ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব ইউডি অলিভেইরেন্সে-র হয়ে পেশাদার অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ক্লাবে খেলে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের শীর্ষ লিগের ক্লাব চাভেস-এ জায়গা করে নেন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ক্লাব এফসি ক্রাসনোদার-এ যোগ দেন পিনা। এরপর থেকে ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় ১১৮টি ম্যাচে ৮টি গোল করেছেন তিনি। ২০২৪-২৫ মরসুমে ক্রাসনোদারের ইতিহাসে প্রথম রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
জাতীয় দলের জার্সিতে কেভিন পিনার অভিষেক হয় ২০২২ সালের ২৫ মার্চ, লিচেনস্টাইনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর থেকে তিনি ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস-এ গোল করার পাশাপাশি ঘানার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়েও অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন এই মিডফিল্ডার।
তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি এলো ২০২৬ বিশ্বকাপে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ২১ মিনিটে নেওয়া দূরপাল্লার নিখুঁত ফ্রি-কিক সরাসরি জালে জড়িয়ে দিয়ে কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেন তিনি।
এর আগেই কেপ ভার্দে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে। সেই ম্যাচে ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনিয়া-র অসাধারণ পারফরম্যান্স দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেয়।
আর উরুগুয়ের বিপক্ষে কেভিন পিনার সেই একটি ফ্রি-কিক শুধু একটি গোলই নয়—এটি একটি ছোট্ট পশ্চিম আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিশ্বের অন্যতম সেরা মঞ্চে কেপ ভার্দে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল, আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে রইলেন কেভিন পিনা।
২-২ গোলে শেষ হয় উরুগুয়ে-কেপ ভার্দে ম্যাচ! স্পেনের পর উরুগুয়েকেও আটকে দিল কেপ ভার্দে।








