বিশ্বকাপে ব্রাজিল, খবরটা চার বছর ধরে অচেতন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত সমর্থকের চেতনা ফেরালো
২০২২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পরপরই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ২৬ বছর বয়সী অক্ষয়। সেই থেকে তিনি কার্যত বিছানায় বন্দি। তবে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রত্যাবর্তন তার জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

এক্সট্রাইম ওয়েব ডেস্ক: ভাবা যায়! ফুটবলপ্রেম, ব্রাজিলপ্রেম কাকে বলে উপল্দ্ধি করলেন চার বছর ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত অচেতন এক ব্রাজিল সমর্থকের পরিবার। গত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হারের পরই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন কেরালার কাক্কানাদের ২৬ বছরের ব্রাজিল সমর্থক যুবক। তারপর থেকেই তিনি অচেতন। কোনও চেতনা ছিল না। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোয়ালিফাই করার খবরটা তাঁকে শোনানোর পরই চোখ মেলে চার বছর পর তাঁর মুখে হাসি দেখা যায়।
কেরালায় ব্রাজিলের সমর্থকের অভাব কখনও ছিল না। তবে কাক্কানাদের ওই পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে সমর্থন করার কারণটা অনেক বেশি ব্যক্তিগত।
তাদের একটাই আশা—সেলেসাওদের সাফল্য যেন একটি অলৌকিক ঘটনার জন্ম দেয়, আর চার বছর ধরে শয্যাশায়ী থাকা তাদের প্রিয় অক্ষয় আবার নিজের পায়ে হাঁটতে পারেন।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পরপরই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ২৬ বছর বয়সী অক্ষয়। সেই থেকে তিনি কার্যত বিছানায় বন্দি। তবে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রত্যাবর্তন তার জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
গত শনিবার অক্ষয়ের কয়েকজন বন্ধু তাকে দেখতে এসে জানায় যে ব্রাজিল বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। পরিবারের সদস্যদের কথায়,, দীর্ঘ চার বছর পর তারা অক্ষয়ের মুখে একটি স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখতে পান।
“সে হাসছিল,” আবেগঘন কণ্ঠে জানান পরিবারের সদস্যরা।
ওই যুবকের পরিবার মনে করছে, ফুটবলের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা হয়তো তার সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াইয়ে নতুন শক্তি জোগাবে।
শনিবার ব্রাজিল তাদের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচ উপলক্ষে তাদের বাড়ির কাছেই একটি স্থানীয় ক্লাব বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছিল।
আকশয়ের বাবা কে. টি. পুরুষোত্তমন, যিনি পেশায় একজন শ্রমিক, বলেন, “হাসপাতালে যাওয়া ছাড়া গত চার বছরে এটাই অক্ষয়ের প্রথম বাড়ির বাইরে বের হওয়া।” ছেলের জন্যই এবার পুরুষোত্তমন বাড়িতে টিভির ব্যবস্থা করছেন।
একসময় নিজেও ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন অক্ষয়। ব্রাজিলের প্রতি তার আবেগ ছিল অসীম। কিন্তু তার জীবনে এমন কঠিন মোড় আসবে, তা কখনও কল্পনাও করেনি পরিবার।
পুরুষোত্তমন এখনও সেই রাতের কথা ভুলতে পারেন না। তিনি বলেন, “ব্রাজিলের পরাজয়ের দুই ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গিয়েছিল, কিন্তু অক্ষয় বাড়ি ফিরছিল না। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি, যে পাবলিক স্ক্রিনিংয়ে সে খেলা দেখছিল, সেখানেই সে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।”
সেই রাতের পর থেকেই বদলে যায় অক্ষয়ের জীবন। কিন্তু পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের বিশ্বাস—ফুটবলের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা, তাঁর ব্রাজিলপ্রেম একদিন তাকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনবে।
এখন তাদের সবার প্রার্থনা একটাই—ব্রাজিলের জয়ের আনন্দ যেন অক্ষয়ের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে, এবং তিনি আবার নিজের পায়ে হেঁটে মাঠে ফিরতে পারেন।








