উপেক্ষার জবাব জাতীয় মঞ্চে! VVS Laxman-এর বোর্ডের ডাকে আবার বড় দায়িত্বে কোচ সৌরাশিস
বাংলার ক্রিকেটে জায়গা হয়নি তাঁর। অথচ গত সাত-আট বছরে বাংলার একমাত্র সর্বভারতীয় ট্রফি জয়ের অন্যতম কারিগর তিনিই। সেই সৌরাশিস লাহিড়িকেই কোচ হিসেবে যোগ্য মনে করেনি সিএবি। কিন্তু রাজ্য সংস্থা না ভাবলেও, আস্থা রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

সব্যসাচী বাগচী
বাংলার ক্রিকেটে জায়গা হয়নি তাঁর। অথচ গত সাত-আট বছরে বাংলার একমাত্র সর্বভারতীয় ট্রফি জয়ের অন্যতম কারিগর তিনিই। সেই সৌরাশিস লাহিড়িকেই কোচ হিসেবে যোগ্য মনে করেনি সিএবি। কিন্তু রাজ্য সংস্থা না ভাবলেও, আস্থা রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
জাতীয় ক্রিকেট অ্য়াকাডেমির প্রধান VVS Laxman-এর নেতৃত্বাধীন বোর্ডের পরিকল্পনায় ফের বড় দায়িত্ব পেলেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরাশিস লাহিড়ি।
আগামী ৬ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা বিসিসিআইয়ের ‘ইমার্জিং মেন্স টুর্নামেন্টে’ কোচ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
যে সৌরাশিসকে বাংলার কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এমনকি সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলার পর যাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও বসেছিল—আজ সেই সৌরাশিসই জাতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তারকাদের গড়ার দায়িত্বে।
শনিবারই বোর্ডের তরফে সরকারি বার্তা পেয়েছেন সৌরশিস।
তাঁকে আগামী ৫ জুলাই বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

এই দায়িত্বটি ভারতীয় দলের ‘রেড বল প্রজেক্ট’-এর অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগের পর তরুণ প্রতিভাদের তৈরি করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড।
কয়েক সপ্তাহ আগে দেশজুড়ে লাল বলের ক্রিকেটে ভালো করা অনূর্ধ্ব-২৫ ক্রিকেটারদের নিয়ে যে বিশেষ শিবির হয়েছিল, সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সৌরাশিসের। এবার সেই ক্রিকেটারদের নিয়েই হবে ইমার্জিং মেন্স টুর্নামেন্ট, যা চলবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত।
এই টুর্নামেন্টের পর বেছে নেওয়া হবে ‘ইমার্জিং ইন্ডিয়া’ দল। আর সেই পুরো প্রক্রিয়াতেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকছেন সৌরাশিস—ভারত ‘এ’ দলের সহকারী কোচ হিসেবে।
বাংলায় না হলেও, জাতীয় স্তরে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন সৌরাশিস। নতুন দায়িত্ব শুরুর আগে কেমন লাগছে? এক্সট্রা টাইম বাংলাকে ফোনে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি।
"একটা সময় এমনই চ্যালেঞ্জার ট্রফি থেকে আমার উত্থান ঘটেছিল। গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে গিয়েছিলাম। আমরাই ছিলাম এনসিএ-র প্রথম ব্যাচ। এবার সেখানেই কোচ হিসেবে নতুন ইনিংস শুরু করব। দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। "
প্রাক্তন এই অফ স্পিনার আরও বলেন, "বোর্ডের ডাক নিঃসন্দেহে আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বাংলার হয়ে ১৬ বছর খেলেছি—এই পথটা কখনও সহজ ছিল না। এই অবস্থায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে নানা ভূমিকায় বাংলা ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। আজ আমার পরিচয়, আমার স্বপ্ন—সবটাই কোচিংকে ঘিরে। এটাই আমার জীবিকা, এটাই আমার ভালোবাসা। কঠিন সময় অনেক কিছু শেখায়। এই লড়াইয়ের সময়ে আমার বাবা-মা, স্ত্রী ও ছেলে যে সমর্থন দিয়েছে, সেটা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।"








