ছয় বোর্ডে ছয় অস্ত্র! পাইপার্সের ড্রাফট স্ট্র্যাটেজিতে লুকিয়ে সাফল্যের রহস্য
আইকন বোর্ডে দলের মূল ভরসা ম্যাগনাস কার্লসেন। পুরুষদের বোর্ডে অনিশ গিরি এবং বিদিত গুজরাঠি যোগ করেছেন অতিরিক্ত শক্তি। অন্যদিকে, মহিলাদের বোর্ডে কোনেরু হামপির অভিজ্ঞতা এবং সদ্য উইমেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ী দিব্যা দেশমুখের তারুণ্য, দলের ভারসাম্য আরও বাড়িয়েছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: আলপাইন এপিএল পাইপার্সের সিজন ৪-এর স্কোয়াড কাগজে-কলমে দেখে তারকাখচিত দল বলেই মনে হতে পারে। তবে এই দলের আসল গল্প শুধু তারকা খেলোয়াড়দের নাম নিয়ে নয়, বরং গ্লোবাল চেস লিগের ড্রাফট ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে প্রতিটি বোর্ডে শক্তিশালী একটি দল তৈরি করা হয়েছে, সেটিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পাইপার্স নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিশ্বের এক নম্বর এক ম্যাগনাস কার্লসেন, অনিশ গিরি, ভিদিত গুজরাঠি, কোনেরু হামপি, দিব্যা দেশমুখ এবং ভোলোদার মুরজিনকে চতুর্থ মরশুমের গ্লোবাল চেস লিগে বেঙ্গালুরুতে । এই ছয় সদস্যের দলে রয়েছে অভিজ্ঞ চ্যাম্পিয়ন, বিশ্বের অন্যতম সেরা পুরুষ দাবাড়ু, শীর্ষস্থানীয় মহিলা দাবাড়ু এবং ভবিষ্যতের তারকা হয়ে ওঠার পথে থাকা এক তরুণ প্রতিভা।
আর এই ভারসাম্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্লোবাল চেস লিগে শুধু প্রথম বোর্ডে বড় তারকাকে নিয়ে এলেই সাফল্য নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি পজিশনেই দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকতে হয়। পাইপার্স, ড্রাফটে ঠিক সেই কৌশলই অনুসরণ করেছে বলে মনে হচ্ছে, শীর্ষ সারির তারকাদের দলে নেওয়ার পাশাপাশি এমনভাবে স্কোয়াড সাজানো হয়েছে, যাতে দল শক্তিশালী থাকে।
আইকন বোর্ডে দলের মূল ভরসা ম্যাগনাস কার্লসেন। পুরুষদের বোর্ডে অনিশ গিরি এবং বিদিত গুজরাঠি যোগ করেছেন অতিরিক্ত শক্তি। অন্যদিকে, মহিলাদের বোর্ডে কোনেরু হামপির অভিজ্ঞতা এবং সদ্য উইমেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ী দিব্যা দেশমুখের তারুণ্য, দলের ভারসাম্য আরও বাড়িয়েছে। প্রডিজি বোর্ডে তরুণ শক্তি হিসেবে রয়েছেন ভোলোদার মুরজিন।
ফলে পাইপার্সের স্কোয়াডকে শুধুমাত্র একঝাঁক তারকার সমাহার বলা যায় না। বরং এটি বিভিন্ন প্রজন্ম, লিঙ্গ এবং অভিজ্ঞতার স্তরের খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি একটি পরিকল্পিত দল। আর গ্লোবাল চেস লিগের দলগত ফরম্যাটও মূলত এমন ভারসাম্যপূর্ণ সংমিশ্রণ তৈরির জন্যই পরিকল্পিত।
তবে আসল পরীক্ষা হবে দাবার বোর্ডে। সিজন ৪-এ ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ডাবল রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে মুখোমুখি হবে। প্রতিটি দলকে লিগ পর্বের শেষে সেরা দুইয়ের মধ্যে থাকতে হবে, তবেই মিলবে ফাইনালের টিকিট।
তাই পাইপার্সের খেলোয়াড়দের নাম যতই শিরোনাম তৈরি করুক না কেন, তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে এই তারকাদের একসঙ্গে করার পেছনে থাকা ড্রাফট কৌশল। প্রতিটি বোর্ডেই যেখানে রয়েছে যথেষ্ট শক্তি, সেখানেই হয়তো লুকিয়ে রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের আসল সুবিধা, যা তাদের বাকিদের থেকে আলাদা করে দিতে পারে।








