দেনা দেখলেন সোনা দেখলেন না!
আপনি পড়েছেন ভারতীয় ফুটবলে ব্রাজিল, উরুগুয়ে, পানামাকে নিয়ে এসে ৮৫ কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে। ব্রাজিল এসেছে, খেলে গেছে এখানে। অরিজিনাল ব্রাজিল। আপনি বলছেন, ওসব কী হবে, অ্যাকাডেমি চাই। অ্যাকাডেমি অ্যাকাডেমি করছেন? ভারতে মোট ১৪২টি স্টার ক্যাটাগরির অ্যাকাডেমি আছে। তার মধ্যে ১৬টি চার ও পাঁচ তারা।
-সাইফ
ভারতের বিশ্বব্যাংকের IBRD এবং IDA ঋণ প্রায় ৩৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। তাতে কার কী বিগড়ে যাচ্ছে?
Chelsea Football Club Limited তার মালিকানাধীন সংস্থা BlueCo 22 Limited-এর কাছে ২.০২৪১ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণী। ২৪,২৮৯ কোটি টাকা ভারতীয় মুদ্রায়। মালিকের বাইরে ঋণ ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।
বার্সিলোনার ঋণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণের খেলা সর্বত্রই একই। যারা বেশি বড়লোক, তাদের বেশি ঋণ। এই যেমন নীরব মোদী, বিজয় মালিয়া যা ঋণ করেছে তাতে আমাদের মত গরীবের যদি একটু দেওয়া যায়, কয়েক লাখ পরিবার হেসে হেসে বেঁচে যাবে। আমাদেরই ফ্ল্যাট, গাড়ি করে কম ঋণ? গাড়ি শোধ হয়েছে, ফ্ল্যাট শোধ হবে যবে, আমরা বুড়ো হয়ে যাব।
ঘাটতি সর্বত্রই। জীবনের চাহিদা আর জোগান এক নয়। এভাবেই একটা ১০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া কোনও এক আজ আছে, কাল নেই কোম্পানিতে চাকরি করে বাইক কেনে কোনও যুবক। অর্ধেকের বেশি EMI দেয় সে। চারটে বিয়েবাড়ি করে, একটা ব্লক লেন্স কেনে, সিনেম্যাটিক ক্যামেরা কেনে কোনও প্যাশনেট ফটোগ্রাফার। মাসে মাসে কিস্তির টাকা। পাঁচ বছর পর সেটা শোধ হলে মার্কেটে চলে আসে ক্যামেরার নতুন ভার্সন! বন্ধ করতে পারবেন?
সব কিছু লোভ বলে দিলে হয় না।
গলা পর্যন্ত দেনা করে, দু'কাঠা জমিতে পিলার তোলে কোনও পরিযায়ী পরিবার। স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়। সব সময় গেল গেল করলে হয় না!
আপনি পড়েছেন ভারতীয় ফুটবলে ব্রাজিল, উরুগুয়ে, পানামাকে নিয়ে এসে ৮৫ কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে। ব্রাজিল এসেছে, খেলে গেছে এখানে। অরিজিনাল ব্রাজিল। আপনি বলছেন, ওসব কী হবে, অ্যাকাডেমি চাই।
অ্যাকাডেমি অ্যাকাডেমি করছেন? ভারতে মোট ১৪২টি স্টার ক্যাটাগরির অ্যাকাডেমি আছে। তার মধ্যে ১৬টি চার ও পাঁচ তারা।
অ্যাকাডেমির মান নিয়ে প্রশ্নে যাচ্ছি না। কয়েকটি দেশের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে চোখ রাখি। যদিও জনসংখ্যা অনুযায়ী দেখা যায়, সেটা আলাদা। এরা ফুটবলে কিন্তু অনেক এগিয়ে।
ভারত – ১৪২ | জার্মানি – ৫৮ | ফ্রান্স – ৩২ | স্পেন – নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই | সুইজারল্যান্ড – ৭ | জাপান – ৪ | কাতার – ৪৫।
ওদের দেশের ফেডারেশন স্বীকৃত অ্যাকাডেমির সংখ্যা এটাই। বৃহৎ জনসংখ্যার চীনের ক্ষেত্রে ১৫টি প্লাস ৩। এর বেশি সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।
ভারতের ১৪২ সংখ্যাটা আপনারা জলভাত ভাববেন না। কারণ, এই স্টার পেতে গেলে AFC-র নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া আছে। সেটা কালীঘাটে বা নাগপুরে বসে ঠিক হয় না। এর মধ্যে পাড়ায়- পাড়ায় প্যাসনে চলা ডিবেদা, শিবাদার ক্যাম্প বাদ দিলাম কিন্তু।
এবার প্রশ্ন হল, এত ফুটবল অ্যাকাডেমি, কিন্তু প্লেয়ার কই? ফুটবলটা আসলে কী? বলে লাথি মারলেই যদি ফুটবল হয়ে যায়, তাহলে আমাদের ওদের এত ফারাক কেন? এই পার্থক্যটা সায়েন্টিফিক্যালি একটু দেখি না। অনেক তো হল!








