দুর্ধর্ষ ট্যাকটিক্যাল গেম, ভয়ঙ্কর ফ্রান্সকে আবার থামিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন
২০২৪-এর ইউরো সেমিফাইনাল ও ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনাল – দুবারই ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তারা একই ঘটনা ঘটালো। এজন্যই তো তারা ম্যাচের আগে থেকেই বলছিল, ফ্রান্সকে থামাতে পারে শুধু স্পেনই। সেটাই তারা করে দেখালো।

গৌতম রায়
আবার, আবার সেই একই ঘটনা। সাম্প্রতিক অতীতে বড় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে সেই স্পেনের কাছেই হার দুর্ধর্ষ ফ্রান্সের। ফরাসিদের ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে চলে গেল স্পেন। ১৬ বছর পর আবার তারা চূড়ান্ত পর্বে।
২০২৪-এর ইউরো সেমিফাইনাল ও ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনাল – দুবারই ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তারা একই ঘটনা ঘটালো। এজন্যই তো তারা ম্যাচের আগে থেকেই বলছিল, ফ্রান্সকে থামাতে পারে শুধু স্পেনই। সেটাই তারা করে দেখালো।
আ্রর সেটা করল কীভাবে? দুর্ধর্ষ একটা দলকে থামাতে আরও দুর্ধর্ষ ট্যাকটিক্যাল গেম তুলে ধরলেন রড্রি-কুবরাসিরা। এই ফ্রান্সকে কীভাবে ছিটকে দিতে হয় সেটা কিন্তু বারবার করে শুধু দেখালেনই না, নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বও প্রমাণ করলেন।
শুরু থেকেই হাই প্রেসিং ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। বলের দখল হারালেই ফরাসিদের পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন রড্রি, কুবারসিরা। ওলিজে-এমবাপেদের বলই ধরতে দিচ্ছিলেন না। ডিফেন্স অরগানাইজেশন এমন রেখেছিলেন, পাসিংয়ের জায়গাই পাচ্ছিল না ফরাসিরা। স্প্যানিশরা এমনভাবে ব্লক করে রেখেছিল পাসিং জোনটা। এতটাই হাই প্রেসিং যে গেম মেকার ড্যানি ওলমোও নেমে এসে বল কাড়তে ঝাঁপাচ্ছেন। এমন তাড়া খেয়ে এতটাই খেই হারিয়ে ফেলল ফ্রান্সের স্বপ্নের আক্রমণভাগ যে দেম্বেলে – ওলিজেরাও নেমে এসে পাস খেলার জায়গা খুঁজতে লাগলেন।
যেমন একসঙ্গে ৭-৮ জনে ডিফেন্স, তেমনি আক্রমণে উঠলেও অন্তত ৪-৫ জন। স্পেনের এই ভারসাম্যের ফুটবলের কোনও জবাবই দিতে পারলেন না দিদিয়ের দেশঁ। আশা করা গিয়েছিল দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর প্ল্যান বি দেখা যাবে। কিন্তু দুয়েকে নামিয়ে ভুল সংশোধন করা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া গেল না। আর এই ফুটবলের মধ্যেই দুই অর্ধে দুটি গোল করে নিয়ে ম্যাচ বার করে নিল স্পেন।
বক্সের মধ্যে লুকাস ডিগনে ইয়ামলকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় স্পেন। গোল করতে ভুল করেননি ওয়েরজাবল। দ্বিতীয় গোলটি রাইট ব্যাক পেড্রো পোরোর। বক্সের মাথায় ওলমোকে ফাউল করা হলেো পড়ে যেতে যেতে বলটি পাস করে দেন পোরোকে। গোলরক্ষকের বাঁদিক দিয়ে জালে বল জড়ান স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।এরপরই দারুণ একটা গোল করেছিলেন ইয়ামল। কিন্তু ফটো ফিনিশে বেনিফিট অফ ডাউটে অফসাইড দেওয়া হয়। ফরাসি ডিফেন্স নিয়ে একটা সংশয় ছিলি, সেটাকেও দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে গেল স্প্যানিশরা।
স্বপ্নের আক্রমণভাগ ও মিডফিল্ড ফ্রান্সের। সেটাকে কীভাবে থামাতে হয় দেখিয়ে দিলেন স্প্যানিশ কোচ ফুয়েন্তে। স্প্যানিশ আর্মাডায় আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস হয়ে গেল ফ্রান্স। পরপর তিনটি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে যাদের কাছে হারের হ্যাটট্রিক, ফ্রান্সকে বলতেই হবে, না, সেই স্পেনই বেটার. সেই স্পেনই সেরা।
ছবি সৌজন্য এক্স
