ধারে নয়, ভারে কাটল ইংল্যান্ড, জোড়া গোল বেলিংহ্যামের, নরওয়ের স্বপ্নের দৌড় থামিয়ে সেমিফাইনালে থ্রি লায়ন্স
নরওয়ের স্বপ্নের দৌড় থেমে গেল। বিশ্বকাপ থেকে তাদের ছিটকে দিয়ে সেমিফাইনালে চলে গেল ইংল্যান্ড। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ম্যাচটা ২-১ গোলে জিতল থ্রি লায়ন্স।

গৌতম রায়
নরওয়ের স্বপ্নের দৌড় থেমে গেল। বিশ্বকাপ থেকে তাদের ছিটকে দিয়ে সেমিফাইনালে চলে গেল ইংল্যান্ড। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ম্যাচটা ২-১ গোলে জিতল থ্রি লায়ন্স। দুটি গোলই জুড বেলিংহ্যামের। যদিও প্রথমে গোল করে নরওয়েকেই এগিয়ে দিয়েছিলেন আন্দ্রেয়াস সেলডেরুপ। কিন্তু দিনের শেষে অভিজ্ঞতার জয়। সেমিফাইনালে হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যামরা।
ইংল্যান্ড শুরু করেছিল ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে। কেনকে সামনে রেখে তার পিছনে বেলিংহ্যাম। দুই প্রান্তে মাদুয়েকে ও অ্যান্টনি গর্ডন। নরওয়ে যেহেতু ডিফেন্সিভ মোডে শুরু করেছিল তাই দুই ইংরেজ সাইডব্যাক এরিক কোনসা ও নিকো ও রেইলিও আক্রমণের পার্টিতে বেশি করে যোগ দিতে পারছিলেন। ইংল্যান্ড এই সময়টা নরওয়ে সীমানায় অজস্র পাস খেলে ক্রমাগত চাপ রেখে গেল।
অন্যদিকে নরওয়ে দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে রেখে চেষ্টা করেছে বেলিংহ্যাম যাতে ফাঁকা জায়গা না পান। মাঝখানে কেন ও বেলিংহ্যামের যোগসূত্রটা কেটে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেল তারা। আর এ কাজে অনেকটা সফল হওয়ার জন্যই ইংল্যান্ড অত চাপ রেখেও সেভাবে ওপেন করতে পারছিল না। নরওয়ের মাঝমাঠে খেলাটা তৈরি করার দায়িত্বে ছিলেন অধিনায়ক ওডেগার্ড।
প্রথম মিনিট পঁচিশ ইংল্যান্ডের চাপটাকে নেওয়ার পর নরওয়ের হয়ত মনে হল, তারা ইংল্যান্ডকে বড় বেশি সমীহ করে ফেলছে। তারপরই আক্রমণে তেজ বাড়াতে শুরু করল। ইংল্যান্ড রক্ষণে বেশ কয়েকবার ধাক্কাও দিয়ে গেল। দুবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন আর্লিং হালান্ড। একবার বলটি ঠিকমত ধরতে পারলেন না। আর একবার তাঁর হেড সরাসরি পিকফোর্ডের হাতে চলে যায়। তবে এটার মধ্যেই ছিল অশনি সঙ্কেত। বাঁদিক দিয়ে ঢুকে দূরুহ কোন থেকে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে গোল করে গেলেন আন্দ্রেয়াস সেলডেরুপ। গোলের আগে কেনকে ফাউল করা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে রেফারি হয়ত এটা ফাউল দিতেও পারেন কিন্তু এই ঘটনায় ফাউল না দিয়ে রেফারি ভুল কিছু করেননি।
নরওয়ে রক্ষণাত্মক খোলসটা খুলে রেখে আক্রমণে নজর দেওয়ায় তাদের রক্ষণে কিছুটা ফাঁকা জায়গাও তৈরি হতে শুরু করল। সেই সুযোগে প্রথমার্ধেই গোলটি শোধ করে দেন বেলিংহ্যাম। নরওয়ে বক্সে দুজন ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে সমতা ফেরান।
বেলিংহ্যামের গোল নিয়ে অবশ্য একটা মৃদু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গোলের আগে নরওয়ে গোলরক্ষক উঁচু করে যে শট নেন সেটি কেনের পায়ে পড়ার আগে ওভারহেড ক্যামেরা কেবলে বলটি লেগেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। যদি তা হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী খেলা সেখানেই থামানো উচিত। তাহলে ইংল্য়ান্ডের গোলের আক্রমণটাই হয় না। যদিও এই ঘটনা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই সাইড ব্যাক ও’রেইলি ও কোনসাকে তুলে ফ্রেস লেগ নিয়ে আসেন টুচেল। নামিয়ে দেন স্পেনস ও রজার্সকে। যাতে প্রান্তিক আক্রমণে আরও গতি আসে। তবু সমানে সমানে টক্কর। গোলের সুযোগও এসেছিল, হয়ত বেশি সহজ সুযোগ নরওয়েই পেয়েছিল। তবে ১-১ অবস্থাতেই শেষ হল নির্ধারিত সময়ের খেলা।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সের মাথা থেকে নেওয়া রজার্সের শট বেরিয়ে আসে নরওয়ে গোলরক্ষকের বুক থেকে। ফিরতি বল গোলে ঠেলে দেন সেই জুড বেলিংহ্যাম।
এরপরই বাঁদিক দিয়ে নরওয়ে বক্সে একটা বিপজ্জনক দৌড় দেন স্পেনস। তাঁকে ফাউল করেন নরওয়ে ডিফেন্ডার। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ। কিন্তু ভারের সাহায্যে সিদ্ধান্ত বদলে যায। তৃতীয় গোল খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায় নরওয়ে।
এদিন কিন্তু ধারে নয়, ভারে কাটল ইংল্যান্ড। ম্যাচ হয়ত জিতল, কিন্তু নড়াচড়া দেখে ইংল্যান্ড দলটাকে বেশ ক্লান্তই মনে হল। উল্টোদিক থেকে সেমিফাইনালে যদি আর্জেন্টিনা উঠে আসে, তাহলে কিন্তু এই ফুটবলে সমস্যায় পড়তে পারে থ্রি লায়ন্স। তবে সেমিফাইনালে যদি সেই ম্যাচই হয় তাহলে সেটা সবসময়ই অন্যরকম যুদ্ধ। অন্যরকম সংঘাত। সেই ১৯৮৬ থেকেই। সেই হ্যান্ড অফ গড থেকেই।
