রাজস্থান ছাড়া ছিল বড় ঝুঁকি, তবু নতুন করে শুরু করতে চেয়েছিলাম: সঞ্জু স্যামসন
১১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজস্থান রয়্যালস (RR) ছেড়ে চেন্নাই সুপার কিংসে (CSK) যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে "বড় ঝুঁকি" বলে বর্ণনা করলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কেন রাজস্থান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং আইপিএল ২০২৬-এ হতাশাজনক শুরু সত্ত্বেও কীভাবে সিএসকে ম্যানেজমেন্ট তাঁর উপর আস্থা রেখেছিল।
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: ১১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজস্থান রয়্যালস (RR) ছেড়ে চেন্নাই সুপার কিংসে (CSK) যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে "বড় ঝুঁকি" বলে বর্ণনা করলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কেন রাজস্থান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং আইপিএল ২০২৬-এ হতাশাজনক শুরু সত্ত্বেও কীভাবে সিএসকে ম্যানেজমেন্ট তাঁর উপর আস্থা রেখেছিল।
চলতি বছর ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সঞ্জু। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনাল পর্যন্ত টানা তিনটি অর্ধশতরানসহ মোট ৩২১ রান করে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মানও জিতেছিলেন। সেই দুর্দান্ত ফর্ম নিয়েই তিনি আইপিএল ২০২৬-এ সিএসকের জার্সিতে নামেন।
আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রি-অকশন ট্রেডে ১৮ কোটি টাকায় সঞ্জুকে দলে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস। বিনিময়ে রাজস্থান রয়্যালস পায় অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজা ও স্যাম কারানকে। তবে নতুন দলের হয়ে তাঁর শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি। প্রথম তিন ম্যাচেই এক অঙ্কের রানে আউট হন তিনি। এরপর দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১১৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ঘুরে দাঁড়ান।
জিওস্টারের 'সুপারস্টার্স' অনুষ্ঠানে সঞ্জু বলেন, তিনি আগে থেকেই জানতেন ২০২৫ সালই রাজস্থান রয়্যালসে তাঁর শেষ মরসুম হবে।
"রাজস্থান রয়্যালস ছেড়ে আসা ছিল বিশাল ঝুঁকি। একবার যখন ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন, তখন আর পিছিয়ে আসার সুযোগ থাকে না। এমনও হতে পারত, এমন কোনও দলে যেতে হতো যেখানে আমি যেতে চাইনি, কিংবা নিলামে গিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হতো।"
সঞ্জু জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে ছিল দুটি বড় কারণ।
"প্রথমত, আমি নিশ্চিত ছিলাম ২০২৫-ই রাজস্থানের হয়ে আমার শেষ আইপিএল। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে স্ত্রীর সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি। ওরা বারবার জানতে চেয়েছিল, এটা আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত কি না। আমরা প্রায় দুই-তিন সপ্তাহ ধরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তারপরই সিদ্ধান্ত নিই, এবার নতুন পথেই হাঁটব।"
চেন্নাইয়ের স্পিন-সহায়ক চেপকের উইকেটে নিজের ব্যাটিং মানিয়ে নেওয়া নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সেসবকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিলেন তিনি।
"অনেকে বলেছিল, আমার ব্যাটিং স্টাইল চিপকের ধীরগতির উইকেটের সঙ্গে মানানসই নয়। আমিও বিষয়টা ভেবেছিলাম। কিন্তু নিজেকেই বলেছিলাম, তোমার বয়স এখন ৩০। এবার বেরিয়ে পড়ো, নতুন পথ খুঁজে বের করো। এই আইপিএলে আমি নতুন উদ্যম নিয়ে নেমেছিলাম। নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ ছিল। আর সেই নতুন শক্তিই আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।"
শেষ পর্যন্ত সঞ্জুর মরসুমটা ব্যক্তিগতভাবে সফলই বলা যায়। ১৪ ইনিংসে ৪৭৭ রান করেন তিনি, গড় ৪৩.৩৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৫.৬৩। তাঁর ব্যাট থেকে আসে দুটি শতরান ও একটি অর্ধশতরান।
তবে দলগতভাবে চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য মরসুমটা সুখকর ছিল না। ১৪ ম্যাচে ৬টি জয় ও ৮টি হার নিয়ে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট তালিকার অষ্টম স্থানেই শেষ করতে হয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।
