ভাঙা খুলি থেকে বিশ্বকাপে দুরন্ত হেডে গোল! রাউল জিমেনেজের মুখোশের আসল রহস্য জানুন!
তাঁর মাথার চারপাশে জড়ানো একটি বিশেষ কালো রঙের সুরক্ষামূলক হেডব্যান্ড।

এক্সট্রা টাইম ওয়েব ডেস্ক: মেক্সিকান স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেজ যখন 'এল ট্রাই' (মেক্সিকো জাতীয় দল)-এর হয়ে মাঠে নামেন, তখন বিশ্বজুড়ে দর্শকরা একটি বিশেষ বিষয় লক্ষ্য করেন: তাঁর মাথার চারপাশে জড়ানো একটি বিশেষ কালো রঙের সুরক্ষামূলক হেডব্যান্ড। এটি কোনো ফ্যাশন বা সাধারণ অনুষঙ্গ নয়—বরং চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহৃত এক ধরণের সুরক্ষা-কবচ এবং সেই দিনটির এক স্থায়ী স্মারক, যেদিন পুরো ফুটবল বিশ্ব উৎকণ্ঠায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।
২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর, প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে খেলার সময় হিমেনেজ এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন। বাতাসে ভেসে আসা বল দখলের লড়াইয়ে (এরিয়াল ডুয়েল) ওঠার সময় আর্সেনালের ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজের সঙ্গে তাঁর মাথার প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। মাঠে জ্ঞান হারানোর পর তাঁকে দ্রুত লন্ডনের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়; পরীক্ষায় দেখা যায় তাঁর মাথার খুলি মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে এবং মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
চিকিৎসকরা পরে জানান যে, তাঁর বেঁচে থাকাটাই ছিল এক অলৌকিক ঘটনা—পেশাদার ফুটবলে পুনরায় ফিরে আসার কথা তো তখন চিন্তারও বাইরে ছিল। জরুরি অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ আট মাসের কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পর, ২০২১ সালের আগস্টে হিমেনেজ দৃঢ়তার সঙ্গে মাঠে ফিরে আসেন। তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে একটি স্থায়ী শর্ত যুক্ত ছিল: মাথার খুলির সেই ক্ষতিগ্রস্ত ও নাজুক অংশটি সুরক্ষিত রাখতে ক্যারিয়ারের বাকি সময়জুড়ে তাঁকে বিশেষ প্যাডিংযুক্ত হেডব্যান্ডটি পরে খেলতে হবে। চেনা ছন্দে ফিরে আসাটা সহজ ছিল না। শুরুতে হেডব্যান্ডটি তাঁর আত্মবিশ্বাস ও বল হেড করার ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, যার ফলে তাঁর পারফরম্যান্সে সাময়িক ভাটা পড়েছিল; তবে পরবর্তীতে ফুলহ্যামের হয়ে খেলার সময় তিনি আবারও ক্যারিয়ারে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। আজ, এই হেডব্যান্ডটি এমন একজন খেলোয়াড়ের অনুপ্রেরণাদায়ক প্রতীক হয়ে উঠেছে, যিনি ভালোবাসার খেলাটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য আক্ষরিক অর্থেই মৃত্যুকে জয় করেছেন। সেই ভয়াবহ রাতের ছয় বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর হয়ে গোল করার মাধ্যমে হিমেনেজের যাত্রাপথ এক পূর্ণতা পায়—যা এক হৃদয়স্পর্শী বার্তা দেয় যে, তিনি কেবল মৃত্যুকে জয়ই করেননি, বরং সাফল্যের শিখরেও আরোহণ করেছেন।
